পৃথিবীতে অনেক জ্ঞানী ও গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে। মানুষের কল্যাণে তাঁরা অনেক মহৎ কর্ম সম্পাদন করেছেন। কর্মগুণে তাঁরা পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন। তাঁদের জীবনী পাঠ করে মানুষ নৈতিক জীবনযাপন এবং কুশল ও মহৎ কর্ম সম্পাদনে উদ্বুদ্ধ হয়। বৌদ্ধ সাহিত্যে এরূপ অনেক ভিক্ষু, ভিক্ষুণী, শ্রেষ্ঠী এবং উপাসক-উপাসিকার উল্লেখ পাওয়া যায়, যাঁরা কর্মগুণে বৌদ্ধ সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। ভিক্ষুদের থের বা স্থবিরও বলা হয়। ভিক্ষুণীদের থেরী বলা হয়। এ অধ্যায়ে আমরা কয়েকজন বৌদ্ধ থের-থেরী এবং বিশিষ্ট বৌদ্ধ মনীষীদের জীবন চরিত পাঠ করব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা -
- থের-থেরী ও বিশিষ্ট বৌদ্ধ মনীষীদের জীবন কাহিনি বর্ণনা করতে পারব।
- থের-থেরী ও বিশিষ্ট বৌদ্ধ মনীষীদের জীবন কাহিনির ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পুরোহিত গোবিন্দলাল তার ছেলেকে বলেন, বাবা পূর্বজন্মে আমার দেহ অপূর্ব সুন্দর ও লাবণ্যময় ছিল। জরাগ্রস্ত হয়ে এখন আমার দেহ জীর্ণ হয়ে পড়েছে। মূলত এ দুঃখের আলয়।
মহাকশ্যপ ছিলেন বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবক। বহু জন্মের পুণ্যফলে একসময়ে তিনি ব্রহ্মলোকে জন্মগ্রহণ করেন। পরে গৌতম বুদ্ধের সময়ে মগধ রাজ্যের অন্তর্গত মহাতীর্থ নামক এক ব্রাহ্মণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল কপিল ব্রাহ্মণ। তাঁর গৃহী নাম ছিল পিপ্পলী মানব। ক্রমে পিপ্পলী মানব বড় হন। বড় হয়ে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল ভদ্রা কপিলানি। তিনি ছিলেন মদ্দরাজ্যের সাগল নগরে কোশীয় গোত্রীয় ব্রাহ্মণের কন্যা। তিনি খুবই সুন্দরী ছিলেন। জন্ম-জন্মান্তরের বন্ধনের প্রভাবে তাঁদের উভয়ের বিয়ে হয়। তাঁরা খুব ধার্মিক ছিলেন। সংসারধর্ম পালন করলেও তাঁরা ব্রহ্মচর্য জীবনযাপন করতেন। ব্রহ্মলোক থেকে যাঁরা পৃথিবীতে জন্ম নেন সংসারধর্মে তাঁদের আসক্তি থাকে না। পিপ্পলী মানব ও ভদ্রা কপিলানিরও তাই হলো। পিতার মৃত্যুর পর পিপ্পলী মানব ও ভদ্রা কপিলানি বিপুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। কিন্তু ধন-সম্পদের প্রতি তাঁদের কোনো আকর্ষণ ছিল না। পিপ্পলী মানব গৃহত্যাগের সংকল্প গ্রহণ করেন। তিনি সংকল্পের কথা স্ত্রী ভদ্রা কপিলানিকে জানান। স্বামীর সংকল্পের কথা শুনে ভদ্রা কপিলানিও গৃহত্যাগের সংকল্প করেন। সমস্ত সম্পত্তি দান করে তাঁরা গৃহত্যাগের প্রস্তুতি নেন। তখন স্বামী বললেন, আমাদের একসঙ্গে গৃহত্যাগ করা উচিত হবে না। লোকে ভাববে, গৃহত্যাগ করা সত্ত্বেও স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে বাস করছে। এ রকম ভাবলে লোকের পাপ হবে। তখন কপিলানি বললেন, আপনার কথাই সত্য। আমরা একপথে যাব না। আপনি ডান দিকে যান, আমি বাম দিকে যাব। এই বলে তিনি স্বামীকে তিনবার প্রদক্ষিণ করে প্রণাম করেন এবং বাম দিকে যাত্রা করেন। পিপলী মানব ডান দিকে যাত্রা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পৃথিবীতে ভূমিকম্প এবং আকাশে ভয়ানক শব্দ হয়।
গৌতম বুদ্ধ তখন বেণুবনের মূলগন্ধ কুটিরে অবস্থান করছিলেন। বুদ্ধ দিব্যজ্ঞানে বুঝতে পারলেন, পরম ব্রহ্মচর্যধারী স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ও কঠিন ত্যাগের প্রকাশ এবং গুণপ্রভাবই হঠাৎ ভূমিকম্প ও ভয়ানক শব্দ হওয়ার কারণ। তিনি আরও জানতে পারলেন তাঁরা উভয়েই বুদ্ধের উদ্দেশ্যে সংসার ত্যাগ করেছেন। তখন বুদ্ধ কাউকে কিছু না বলে কুটিরের বাইরে এলেন। হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূরে রাজগৃহ ও নালন্দার মধ্যবর্তী এক বিরাট বটবৃক্ষমূলে এসে পদ্মাসনে বসলেন। তখন বটবৃক্ষের চারদিক দিব্যজ্যোতিতে আলোকিত হয়ে উঠল। পিপ্পলী মানব পথ চলতে চলতে সেখানে উপস্থিত হন। দূর থেকে বুদ্ধকে দেখেই ভক্তিতে তাঁর চিত্ত আপ্লুত হয়ে ওঠে। তিনি বুদ্ধের সামনে গিয়ে বন্দনা করে বললেন: ভন্তে ভগবান, আপনিই আমার শাস্তা, আমি আপনারই শিষ্য।
বুদ্ধ তখন পিপ্পলী মানবের গুণের প্রশংসা করলেন। তারপর তাঁকে ত্রিশরণ গ্রহণ দ্বারা উপসম্পদা প্রদান করেন। ভিক্ষু হওয়ার পর তাঁর নাম রাখা হয় মহাকশ্যপ। দীক্ষার পর মহাকশ্যপকে সঙ্গে করে বুদ্ধ বেণুবনের পথে যাত্রা করেন। কিছুদূর আসার পর বুদ্ধ এক বৃক্ষের নিচে বসতে ইচ্ছা করলেন। মহাকশ্যপ তাড়াতাড়ি নিজের সঙ্ঘাটি চীবর চার ভাঁজ করে বুদ্ধকে বসতে দিলেন। বুদ্ধ বললেন: কশ্যপ, তোমার সঙ্ঘাটি চীবরখানা অতি মৃদু। মহাকশ্যপ ভাবলেন, শাস্তা যখন চীবরখানা মৃদু বলছেন, তাহলে তা পরিধান করতে তাঁর কোনো আপত্তি থাকবে না। এই কথা ভেবে কশ্যপ বললেন; ভন্তে, ভগবান, এই সঙ্ঘাটি চীবর আপনি পরিধান করুন। বুদ্ধ সেটা গ্রহণ করেন এবং বিনিময়ে তাঁকে "বুদ্ধের নিজের পরনের" কাপড় প্রদান করেন। এভাবে তাঁদের মধ্যে চীবর বিনিময় হয়। কশ্যপের চীবর বুদ্ধ এবং বুদ্ধের চীবর কশ্যপ পরিধান করলেন।
দীক্ষা গ্রহণের আট দিন পর মহাকশ্যপ অর্হত্ব ফল লাভ করেন। গৌতম বুদ্ধ ভিক্ষুদের ডেকে মহাকশ্যপের অশেষ গুণের প্রশংসা করলেন। বুদ্ধের ধর্ম-দর্শনে তিনি অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। তাঁর অশেষ গুণরাশির কথা বিবেচনা করে ভিক্ষুগণ তাঁকে অগ্রমহাশ্রাবক পদে অধিষ্ঠিত করেন। অন্যদিকে ভদ্রা কপিলানিও মহাপ্রজাপতি গৌতমীর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেন।
গৌতম বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণ লাভের পর তাঁর ধর্মবাণী সংগ্রহের জন্য এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রথম মহাসঙ্গীতি নামে অভিহিত। মহাকশ্যপ থের সেই সঙ্গীতিতে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন। ধর্মবাণী সংগ্রহের জন্য তিনি পাঁচশত অর্হৎ ভিক্ষু নির্বাচন করেন। তিনি সভাপতির আসন অলংকৃত করে উপালিকে বিনয় এবং আনন্দকে ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। তাঁরা যথাযথ উত্তর প্রদান করেন। তাঁদের ব্যাখ্যাকৃত ধর্ম-বিনয় উপস্থিত ভিক্ষুসংঘ অনুমোদন করেন। এভাবে মহাকশ্যপ থের'র সভাপতিত্বে প্রথম মহাসঙ্গীতিতে বুদ্ধবাণী ধর্ম-বিনয় হিসেবে সংগৃহীত হয়।
মহাকশ্যপ বুদ্ধের শ্রেষ্ঠ শিষ্যদের অন্যতম ছিলেন। তিনি মহাজ্ঞানী এবং শীলবান ভিক্ষু ছিলেন। মহাপরিনির্বাণের পর মল্লরা বুদ্ধের দেহ শশ্মানে দাহ করতে অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁদের চেষ্টা একে একে ব্যর্থ হয়ে যায়। শেষে মহাকশ্যপ থের বুদ্ধের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে বন্দনা করেন। তারপর বুদ্ধের চিতায় আপনা আপনি আগুন জ্বলে ওঠে। অর্হত্ব ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তিনি ভিক্ষুদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ প্রদান করেন। কয়েকটি উপদেশ নিচে তুলে ধরা হলো।
১। ভিক্ষুগণ বহুপরিষদ পরিবেষ্টিত হয়ে বাস করবে না। কারণ পরিষদ পরিচালনায় চিত্ত বিকারগ্রস্ত হয়। বহুজনের সঙ্গ একাগ্রতা নষ্ট করে। ফলে সমাধি দুর্লভ হয়। নানাজনের নানা রুচি পূর্ণ করা দুঃখকর। এ কারণে পরিষদ পরিচালনায় বহুবিধ দোষ জ্ঞান চক্ষে দেখে তা হতে বিরত থাকবে।
২। প্রব্রজিতরা কখনো পৌরহিত্বে আত্মনিয়োগ করবে না। কারণ পৌরহিত্ব কাজে চিত্ত বিকারগ্রস্ত হয়। ভিক্ষুগণ রস ও তৃষ্ণায় অনুরক্ত হয়। ফলে মার্গফল লাভ হতে বঞ্চিত হয়।
৩। ভিক্ষুগণ বহুকাজে যোগদান করবে না। পাপীমিত্র বর্জন করবে। বস্তুগত লাভ বৃদ্ধির চেষ্টা করবে না। রসতৃষ্ণায় অভিভূত ভিক্ষু শীলবিশুদ্ধি পরিত্যাগ করে থাকে।
৪। যাঁদের লজ্জা-ভয় সর্বদা বিদ্যমান থাকে তাঁদের ব্রহ্মচর্য গুণ শ্রীবৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। তাঁরা পুনরায় জন্মগ্রহণ করেন না।
অনুশীলনমূলক প্রশ্ন |
ঋদ্ধি শব্দের অর্থ হচ্ছে ধ্যান-সাধনার প্রভাবে অলৌকিক ক্ষমতা অর্জন। গৌতম বুদ্ধের শিষ্য ও শিষ্যাদের মধ্যে অনেকে ঋদ্ধিশক্তির অধিকারী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে থেরী উৎপলবর্ণা ছিলেন শ্রেষ্ঠ। তবে এই ঋদ্ধিশক্তি তিনি এক জন্মে লাভ করেননি। এজন্য তাঁকে বহু জন্মে সাধনা করতে হয়েছিল। জানা যায়, পদুমুত্তর বুদ্ধের সময় তিনি হংসবতী নগরের এক সম্ভ্রান্ত বংশে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ধর্মপরায়ণা ছিলেন। বড় হয়ে তিনি প্রায়ই পদুমুত্তর বুদ্ধের ধর্মদেশনা শুনতে বিহারে যেতেন। একদিন বিহারে গিয়ে দেখেন পদুমুত্তর বুদ্ধ একজন ভিক্ষুণীকে শ্রেষ্ঠ ঋদ্ধিমতীর স্থান দিয়েছেন। এটি দেখে তাঁর মনের মধ্যেও শ্রেষ্ঠ ঋদ্ধিমতী হওয়ার ইচ্ছা জাগে। তখন তিনি এক সপ্তাহব্যাপী পদুমুত্তর বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যদের ভক্তি সহকারে মহাপূজা দান করেন। পূজা শেষে তিনি পদুমুত্তর বুদ্ধকে বন্দনা করে শ্রেষ্ঠ ঋদ্ধিমতী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। পদুমুত্তর বুদ্ধ তাঁর ইচ্ছা পূরণ হওয়ার জন্য আশীর্বাদ করেন।
অতঃপর বহু জন্মের পুণ্য সঞ্চয় করে গৌতম বুদ্ধের সময় শ্রাবস্তীর এক শ্রেষ্ঠী পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তখন তাঁর নাম রাখা হয় উৎপলবর্ণা। উৎপল শব্দের অর্থ নীল পদ্ম। তাঁর গায়ের রং ছিল নীল পদ্মের মতো। তাই এরূপ নামকরণ করা হয়েছিল। শুধু রূপেই নয় গুণেও তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। আস্তে আস্তে উৎপলবর্ণা বড় হলেন। তাঁর রূপ ও গুণের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। তাঁর রূপে-গুণে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে রাজা, মহারাজা ও শ্রেষ্ঠীগণ তাঁর পিতার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। শ্রেষ্ঠী বুঝতে পারলেন মহাবিপদ সন্নিকটে। এক রাজার সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দিলে অন্য রাজা অসন্তুষ্ট ও ক্রুব্ধ হবেন। এতে শত্রুতা বাড়বে। রাজায় রাজায় যুদ্ধ হবে। অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য তিনি উপায় খুঁজতে থাকেন। অবশেষে উপায় স্বরূপ তিনি কন্যাকে বললেন, মা, তুমি প্রব্রজ্যা গ্রহণ করতে পারবে কি? তাঁর ছিল অতীত জন্মের সঞ্চিত পুণ্যরাশি। খুশি হয়ে উৎপলবর্ণা পিতাকে প্রব্রজ্যা গ্রহণের সম্মতি প্রদান করেন। পিতাও খুশি হয়ে উৎপলবর্ণাকে ভিক্ষুণীদের কাছে নিয়ে গেলেন। ভিক্ষুণীরা তাঁকে প্রব্রজ্যা দান করলেন। প্রব্রজ্যা গ্রহণের অল্প দিনের মধ্যেই উৎপলবর্ণার ওপর উপোসথ কক্ষের কিছু কাজের ভার অর্পিত হলো। দায়িত্ব হিসেবে তিনি উপোসথ গৃহের বিভিন্ন কর্ম সম্পাদন করতেন। তিনি ধ্যানসাধনায় আত্ম নিয়োগ করেন। সাধনার বলে তিনি প্রথমে পূর্বজন্মের স্মৃতি, পরচিত্ত জ্ঞান, দিব্যচক্ষু, দিব্যশ্রুতি জ্ঞান ও ঋদ্ধিশক্তি লাভ করলেন। পরিশেষে অর্হত্বফল লাভ করলেন।
বুদ্ধ জেতবনে সংঘ সম্মেলনে কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ উৎপলবর্ণাকে ঋদ্ধিশক্তিতে সর্বশ্রেষ্ঠার আসন দান করেন। অর্হত্ব ফল লাভ করে উৎপলবর্ণা সাধনা ও সিদ্ধির পরম সুখ চিন্তা করে কতগুলো গাথা আবৃত্তি করেন। গাথাগুলোর মধ্যে কয়েকটির বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো।
১। পূর্বজন্মের স্মৃতি আমার অধিকারে। পরচিত্ত জ্ঞান আমি অর্জন করেছি। দিব্যচক্ষু ও দিব্যশ্রুতি আমার অধিকারে।
২। আমি ঋদ্ধিপ্রাপ্ত। আমি আসবমুক্ত। আমি ষড় অভিজ্ঞতায় পারদর্শিনী। বুদ্ধ শাসনে যুক্ত হওয়ায় আমার ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে।
৩। চিত্ত আমার বশীভূত। আমি ঋদ্ধিপাদে প্রতিষ্ঠিত। ষড় অভিজ্ঞায় পারদর্শীনী। কাম, তৃষ্ণা ও স্কন্ধসমূহ শূলের ন্যায় বিদ্ধ করে। ভোগের আনন্দ আমার কাছে তুচ্ছ। অজ্ঞানের অন্ধকার বিদূরিত করে আমি সর্ববিধ ভোগতৃষ্ণার বিনাশ সাধন করেছি।
অনুশীলনমূলক কাজ |
আম্রপালির জন্ম হয়েছিল বৈশালীর রাজোদ্যানের একটি বড় আম গাছের নিচে। উদ্যান রক্ষক তাঁকে লালন পালন করেন। আম গাছের তলায় জন্ম বলে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল আম্রপালি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আম্রপালি অপূর্ব সুন্দরী হয়ে ওঠে। তাঁর রূপ সৌন্দর্যে আশ-পাশের রাজ্যের রাজপুত্রগণ মুগ্ধ ছিলেন। সকল রাজপুত্র যেভাবেই হোক তাঁকে বিয়ে করার সংকল্প করেন। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না। তাঁকে বিয়ে করা রাজপুত্রদের মধ্যে মর্যাদার বিষয় হয়ে দেখা দিল। ফলে রাজপুত্রদের মধ্যে কলহের সূত্রপাত হলো। ক্রমে এই কলহ যুদ্ধের রূপ পরিগ্রহ করল। অবশেষে কলহের অবসান ঘটানোর জন্য আম্রপালি কাউকেও বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি রাজনর্তকির জীবন বেছে নিলেন। ফলে সকল রাজপুত্রের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক সৃষ্টি হলো।
আম্রপালি ক্রমে রাজ-রাজাদের কাছ থেকে অনেক অর্থ-বিত্ত ও ভূ-সম্পত্তি লাভ করলেন। মধ্য বয়সে একদিন বুদ্ধের ধর্মদেশনা শুনে তিনি অনিত্যতা উপলব্ধি করলেন। বুঝতে পারলেন দেহ, রূপ, যৌবন সবই নশ্বর এবং ক্ষণস্থায়ী। অতঃপর ধর্মদেশনা শোনার জন্য সশিষ্য বুদ্ধকে তিনি নিমন্ত্রণ করলেন। বুদ্ধ নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে আম্রপালির গৃহে উপস্থিত হন। আম্রপালি বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যদের শ্রদ্ধাসহকারে খাদ্যদ্রব্য দিয়ে আপ্যায়ন করলেন। বুদ্ধ আম্রপালির মধ্যে বিমুক্তির লক্ষণ দেখে তাঁকে ধর্মদেশনা করেন। বুদ্ধের ধর্ম শ্রবণ করে আম্রপালি নিজের উদ্যানে বিহার নির্মাণ করে বুদ্ধ ও বুদ্ধশিষ্যদের দান করেন। এ সময় তিনি বুদ্ধের ধর্মনীতি অনুশীলনে ব্রতী হয়ে ভিক্ষুণী ধর্মে দীক্ষিত হন। দীক্ষিত হয়ে তিনি ধ্যান-সাধনায় মনোনিবেশ করেন। অনিত্যতাকে ধ্যানের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে তিনি ধ্যান সমাধির অনুশীলন শুরু করেন। ক্রমে তিনি অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেন। ফলে তিনি অতীত জীবনের ঘটনাবলি দেখতে পেতেন।
অর্ন্তদৃষ্টি লাভ করে একদিন তিনি নিজের অতীত জীবনের ঘটনা অবলোকন করছিলেন। তিনি দেখলেন যে, জন্ম-জন্মান্তরে বিভিন্ন ভালো কাজের মাধ্যমে সঞ্চিত পুণ্যরাশির ফলে তিনি শিখী বুদ্ধের সময় জন্মগ্রহণ করে ভিক্ষুণী সংঘে প্রবেশ করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তখন একদিন অন্যান্য ভিক্ষুণীদের সাথে তিনি চৈত্য পূজায় যোগদান করেন। পূজা শেষে চৈত্য প্রদক্ষিণের সময় তাঁর সামনে ছিলেন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ অর্হৎ ভিক্ষুণী। সেই ভিক্ষুণী হঠাৎ চৈত্যের অঙ্গনে থুথু ফেলেন। এটি দেখে আম্রপালি বয়োজ্যেষ্ঠ ভিক্ষুণীকে লক্ষ করে কটূক্তি করেন। এই কটূক্তি জনিত পাপের ফলে গৌতম বুদ্ধের সময় তাঁকে ঘরের বাইরে গাছের নিচে জন্মগ্রহণ করতে হয়েছে এবং তিনি সংসার জীবনযাপন করতে পারেন নি।
তিনি সর্ব বস্তুর অনিত্যতাকে ধ্যানের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে ধ্যানে রত হন। অর্হত্ব ফল লাভ করে তিনি জন্ম-মৃত্যুর শৃঙ্খল ছিন্ন করেন এবং সকল প্রকার দুঃখ হতে মুক্তি লাভ করেন। মুক্তির নির্মল আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে তিনি অনেকগুলো গাথা ভাষণ করেন। নিচে তাঁর ভাষিত গাথার সারমর্ম তুলে ধরা হলো:
'একসময় আমার এই দেহ অপূর্ব সুন্দর ও লাবণ্যময় ছিল। জরাগ্রস্ত হয়ে তা এখন প্রলেপ খসে পড়া ঘরের মতো জীর্ণ হয়ে পড়েছে। মূলত এ দেহ দুঃখের আলয়।'
আম্রপালির জীবন পাঠে আমরা দেখতে পাই, কর্মের প্রায়শ্চিত্ত সকলকেই ভোগ করতে হয়। কর্মের ফল ভোগ থেকে কেউ রেহাই পায় না। ভালো কাজের সুফল যেমন আছে তেমনি খারাপ কাজের শাস্তিও রয়েছে। তাই মানুষকে সব সময় ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কাউকে কটু কথা বলা উচিত নয়। কর্মের পরিণাম চিন্তা করে সকলের অকুশল কর্ম হতে বিরত থাকা উচিত।
অনুশীলনমূলক কাজ |
বুদ্ধের জীবিতকালে ভিক্ষু ছাড়াও অনেক গৃহী বুদ্ধের একনিষ্ঠ সেবক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনাথপিণ্ডিক ছিলেন অগ্রগণ্য। সে সময়ে শ্রাবস্তীতে সুমন নামে এক শ্রেষ্ঠী বাস করতেন। সুদত্ত নামে তাঁর এক পুত্র ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর সুদত্ত উত্তরাধিকার সূত্রে পিতার বিশাল ধনসম্পদের অধিকারী হন। এরকম ধনবানদের শ্রেষ্ঠী বলা হয়। সুদত্ত শ্রেষ্ঠী অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। গরিব ও দুঃখীদের তিনি মুক্ত হস্তে দান করতেন। কোনো অসহায় মানুষ তাঁর বাড়ি থেকে শূন্য হাতে ফিরে যেত না। বিশেষত তিনি অনাথদের পিন্ড দান করতেন। পিন্ড হলো আহার বা খাদ্যদ্রব্য। অনাথদের অকাতরে পিন্ড দান করতেন বলেই সকলের কাছে তিনি 'অনাথপিণ্ডিক' নামে পরিচিত হন।
এক সময় বুদ্ধ রাজগৃহের জেতবনে অবস্থান করছিলেন। সে সময় অনাথপিণ্ডিক ব্যবসার কাজে রাজগৃহে আসেন। সেখানে এক শ্রেষ্ঠী বন্ধুর বাড়িতে তিনি অতিথি হন। আগেও অনাথপিণ্ডিক কয়েকবার বন্ধুর বাড়িতে অতিথি হয়েছিলেন। তখন তিনি অনেক আদর যত্ন লাভ করেছিলেন। কিন্তু সেদিন তাঁকে আগের মতো সমাদর করতে কেউ এগিয়ে এলো না। তাঁর বন্ধুও ছিলেন খুব ব্যস্ত। তিনি বন্ধুর নিকট ব্যস্ততার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। বন্ধু তাঁকে বললেন, আমি বুদ্ধকে নিমন্ত্রণ করেছি। বুদ্ধ তাঁর শিষ্যসহ আমার বাড়িতে আসবেন। তাঁকে সেবা-যত্ন ও আপ্যায়ন করার জন্য আমরা সবাই ব্যস্ত।
বুদ্ধের আগমনের কথা শুনেই অনাথপিণ্ডিকের মন আনন্দে ভরে উঠল। তিনি আর কিছুই বললেন না। সে রাতে ভালো করে ঘুমাতেও পারলেন না। খুব ভোরে উঠে তিনি জেতবনে বুদ্ধের কাছে গেলেন। বুদ্ধ তখন চংক্রমণ করছিলেন। শ্রেষ্ঠী বুদ্ধকে বন্দনা করে এক পাশে বসলেন। বুদ্ধ তাঁর মনের অবস্থা জেনে তাঁকে ধর্মদেশনা করলেন। বুদ্ধের ধর্মদেশনা শুনে অনাথপিণ্ডিক সেখানেই স্রোতাপত্তি ফল লাভকরলেন। স্রোতাপত্তি হল নির্বাণ লাভের প্রথম ধাপ। মনের একাগ্রতা সাধনের মাধ্যমে এটি অর্জিত হয়। ফেরার সময় অনাথপিণ্ডিক বুদ্ধকে শ্রাবস্তীতে বর্ষাবাস যাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। বুদ্ধ তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
অনাথপিণ্ডিক শ্রাবস্তীতে ফিরে গিয়ে 'কী করলে বুদ্ধ খুশি হবেন' এ বিষয়ে ভাবতে লাগলেন। শ্রাবস্তীতে রাজকুমার জেত-এর মনোরম একটি উদ্যান ছিল। তাঁকে অনেক অনুরোধ করে আঠার কোটি স্বর্ণমদ্রা দিয়ে সেই উদ্যান ক্রয় করলেন। সেখানে নির্মাণ করলেন মনোরম মহাবিহার। এই বিহারের মাঝখানে বুদ্ধের জন্য নির্মিত হয় 'মূলগন্ধকুটি বিহার'। এর চারদিকে নির্মিত হয় আটজন স্থবিরের জন্য পৃথক ভবন। এ ছাড়া সেখানে নির্মিত হল চংক্রমণশালা, ভিক্ষুদের জন্য আশ্রম, দিঘি প্রভৃতি। রাজগৃহ থেকে শ্রাবস্তীর দূরত্ব প্রায় নব্বই মাইল। তিনি বুদ্ধের যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রতি দুই মাইল অন্তর মোট পঁয়তাল্লিশটি বিশ্রামাগার নির্মাণ করালেন। এসব নির্মাণে খরচ হয় আঠার কোটি স্বর্ণমুদ্রা।
তিন মাস ধরে চলে বিহারে দান অনুষ্ঠানের উৎসব। এ অনুষ্ঠানেও খরচ হয় আরও আঠার কোটি স্বর্ণমুদ্রা। রাজকুমার জেত-এর নাম অনুসারে এই জায়গার নাম রাখা হয় জেতবন। বিহারের নাম রাখা হয় 'অনাথপিণ্ডিকের' আরাম। অনাথপিন্ডিক অত্যন্ত বুদ্ধ ভক্ত ছিলেন। প্রতিদিন তিনবেলা তিনি সেই বিহারে যেতেন। বুদ্ধকে পূজা বন্দনা করতেন। বুদ্ধের ধর্মদেশনা শুনতেন। অনাথপিণ্ডিকের বাড়িতে প্রতিদিন পাঁচশত ভিক্ষুর জন্য খাদ্য প্রস্তুত থাকত। বুদ্ধ উনিশবার অনাথপিণ্ডিকের আরামে বর্ষাবাস যাপন করেছিলেন। বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রসারে অনাথপিণ্ডিকের অবদান শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণযোগ্য।
দান কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ অনাথপিণ্ডিক বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। এখন ও বিশ্ব বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করে। তাঁর প্রশংসা করে। তাঁর দান কর্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে দান ও সেবায় ব্রতী হতে চেষ্টা করে।
অনাথপিন্ডিকের জীবনী পাঠে বোঝা যায় যে, দান মানুষকে মহৎ করে। দানের মাধ্যমে পুণ্য, যশ-খ্যাতি, শ্রদ্ধা ও প্রশংসা লাভ হয়।
অনুশীলনমূলক কাজ |
শূন্যস্থান পূরণ কর
১. মহাকশ্যপ ছিলেন বুদ্ধের প্রথম __________।
২. গৌতম বুদ্ধ তখন বেণুবনের ________ অবস্থান করছিলেন।
৩. দীক্ষা গ্রহণের ______ দিন পর মহাকশ্যপ থের অর্হত্ব ফল লাভ করেন।
৪. থেরী উৎপলবর্ণা ভিক্ষুণীদের মধ্যে ঋদ্ধিশক্তিতে ______ ছিলেন।
৫. তাঁর গায়ের রং ছিল ______ মতো।
৬. ভালো কাজের _____ যেমন আছে তেমনি খারাপ কাজের _____ ও রয়েছে।
৭. দান কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ ______ বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
মিলকরণ
| বাম | ডান |
| ১. মহাকশ্যপ বুদ্ধের শ্রেষ্ঠ শিষ্যদের | অকুশল কর্ম বর্জন করতে হবে |
| ২. প্রাচীনকালে ধনবানদের বলা হয় | অন্যতম ছিলেন |
| ৩. থের-থেরীর মধ্যে ঋদ্ধিশক্তিতে শ্রেষ্ঠ ছিলেন | জেতবন |
| ৪. কর্মের পরিণাম চিন্তা করে সকলকে | উৎপলবর্ণা |
| ৫. জেত এর নাম অনুসারে স্থানটির নাম রাখা হয় | শ্রেষ্ঠী |
সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
১. পিপ্পলী মানবের গৃহত্যাগের মূহূর্তে কেন পৃথিবীতে ভূমিকম্প হয়েছিল?
২. আম্রপালি নামকরণের কারণ কী?
৩. অনাথপিন্ডিক কোথায় বিহার নির্মাণ করেছিলেন?
বর্ণনামূলক প্রশ্ন
১. থের মহাকশ্যপে'র ত্যাগের কাহিনিটি বর্ণনা কর।
২. উৎপলবর্ণা কীভাবে ঋদ্ধিশক্তিতে সর্বশ্রেষ্ঠার আসন লাভ করেছিলেন লেখ।
৩. আম্রপালির জীবনী হতে কর্ম ও কর্মফল সম্পর্কে আমরা যে শিক্ষা পাই তা বর্ণনা কর।
৪. সুদত্ত শ্রেষ্ঠী কেন 'অনাথপিণ্ডিক' নামে পরিচিত হলেন তার বর্ণনা দাও।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবকের নাম কী?
ক. সারিপুত্র
খ. সিবলী বুদ্ধ
গ. অনাথপিণ্ডিক
ঘ. মহাকশ্যপ
২. 'পিন্ড' শব্দের অর্থ কী?
ক. বিশেষ পাত্র
খ. রাতের খাবার
গ. আহার বা খাদ্যদ্রব্য।
ঘ. সুঁচ-সুতা
৩. কপিল ব্রাহ্মণ ও ভদ্রা কপিলানি সংসার জীবন ত্যাগ করেছিলেন কেন?
ক. অতীতকালে ব্রহ্মলোকে ছিলেন বলে
খ. উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল বলে
গ. সামাজিক বাধা ছিল বলে
ঘ. আত্মীয়-স্বজনের কুপ্ররোচনায়
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ৪ ও ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
বস্তির এক সাধারণ পরিবেশে সূচনার জন্ম। বড় হয়ে অপূর্ব সুন্দরী হওয়ার কারণে তিনি অনেক ধনীর দুলালের নজরে পড়েন। তাদের কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি ভিক্ষুর ধর্মদেশনা শ্রবণ করে প্রব্রজ্যায় দীক্ষিত হন এবং ধ্যান-সাধনার মাধ্যমে ঋদ্ধিশক্তি লাভ করেন।
৪. সূচনার মানসিক পরিবর্তনে উৎপলবর্ণার লক্ষণীয় দিক হলো-
i. অনিত্যতা
ii. বিমুক্তি
iii. নশ্বর
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও ii
ঘ. ii ও iii
৫. উক্ত ধ্যান-সাধনার ফলে সূচনা কী অর্জন করতে পারেন?
ক. সমাধি
খ. অন্তর্দৃষ্টি
গ. বহিঃদৃষ্টি
ঘ. স্রোতাপত্তি
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. সুচিত্রা ও অর্পণা দুই বোন। রূপে ও গুণে দুজনে অপরূপা। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে সুচিত্রা বুদ্ধের ধর্মদেশনা শুনতে বিহারে যেতেন এবং শ্রেষ্ঠ ভিক্ষুণী হওয়ার ইচ্ছা করতেন। পড়াশোনা শেষে তাদের পিতা সুচিত্রাকে বিয়ে দেওয়ার কথা বললে সে অনীহা প্রকাশ করে। কিন্তু সুচিত্রার রূপ ও গুণের কথা শুনে অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে তাঁর বিয়ের প্রস্তাব আসে। এ অবস্থায় বিয়ে হলে এলাকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কলহ ও রক্তপাত ঘটবে বিধায় পিতা মেয়ের সম্মতিতে 'সুচিত্রাকে' প্রব্রজ্যা গ্রহণ করান। অন্যদিকে অর্পণাকে বিয়ে করা নিয়ে উক্ত এলাকায় যুবকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। অর্পণা বিয়েতে রাজি না হয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। একসময় বিহারে ধর্মচর্চায় অনুপ্রাণিত হলে, তাঁর মনে হয় দেহ, রূপ ও যৌবন সবই ক্ষণস্থায়ী ও একদিন ধবংস হয়ে যাবে।
ক. বুদ্ধের প্রথম মহাশ্রাবক কে ছিলেন?
খ. প্রথম মহাসঙ্গীতি কেন অনুষ্ঠিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সুচিত্রার ঘটনাটি কোন থেরীর জীবনের সঙ্গে মিল রয়েছে? বর্ণনা কর।
ঘ. 'দেহ, রূপ, যৌবন' সবই ক্ষণস্থায়ী ও একদিন ধবংস হয়ে যাবে'-অর্পণার এই উক্তিটির সঙ্গে আম্রপালির জীবন কাহিনি কতটুকু সাদৃশ্যপূর্ণ? বিশ্লেষণ কর।
২. বিধান ও নীলিমা উভয়ে ধার্মিক ছিলেন এবং তাঁদের গুণকীর্তন গ্রামের চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। একসময় দুজনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও তাদের সংসার জীবনের চেয়ে ব্রহ্মচর্যার প্রতি বেশি আগ্রহ ছিল। একসময় তারা এক ধর্মীয় পথ প্রদর্শকের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে গিয়ে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রলয়ংকরী বিকট শব্দে পৃথিবী কেঁপে উঠল। এভাবে তাদের ধর্মযাত্রা সফল হয়।
ক. 'ঋদ্ধি' শব্দের অর্থ কী?
খ. ভিক্ষুগণ মহাকশ্যপকে অগ্রমহাশ্রাবক পদে অধিষ্ঠিত করেন কেন?
গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি কোন থের থেরীর জীবনে সংঘটিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিধান ও নীলিমা ইহ ও পরজন্মে কী লাভ করতে পারবে বলে তুমি মনে কর? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
Read more